বঙ্গবন্ধুর গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্র: বাহাত্তরের সংবিধান ও সমতামুখী সমাজের আকাঙ্ক্ষা

পর্ব ::৭৫

পূর্বে প্রকাশিতের পর
মোট কথা, সমাজতন্ত্রের মধ্যে গণতন্ত্রের ‘কনটেন্ট’ আরো বাড়াতে হয়, সেটা কি বৈশ্বিক অভিজ্ঞতার বিচারে, কি বাংলার মানুষের মন-মানসিকতা বিচার করে।
এসবের থেকে কিছুটা ভিন্ন যুক্তি দিয়েছিলেন ময়মনসিংহের আছাদুজ্জামান খান। তার মতে, সংবিধানে যে গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্রের প্রস্তাব করা হয়েছে তার একটি মৌলিক বৈশিষ্ট্য হলো- এর গণতান্ত্রিক ধারাসমূহকে (যথা ব্যক্তি-স্বাধীনতা, চলাফেরার স্বাধীনতা ইত্যাদি যাকে এক কথায় বলা হয়  civil liberty) রাখা হয়েছে ‘মৌলিক অধিকারের’ অধ্যায়ে, আর সমাজতান্ত্রিক ধারাসমূহকে (যথা প্রত্যেকের ‘অন্ন-বস্ত্রের নিশ্চয়তা, চিকিৎসার নিশ্চয়তা, মজুরির নিশ্চয়তা, শিক্ষালাভের নিশ্চয়তা, চাকরির সংস্থানের নিশ্চয়তা ইত্যাদি বিষয়কে) রাখা হয়েছে ‘মূলনীতির’ অধ্যায়ে। ইচ্ছাকৃতভাবেই এগুলোকে মৌলিক অধিকারভুক্ত করা হয় নাই। কেন করা হয় নাই, তার কারণ হচ্ছে যে গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্রে এ সমস্ত অর্থনৈতিক অধিকার রাষ্ট্রীয় মূলনীতি হিসেবে থাকলেও এর বাস্তবায়ন হবে ক্রমান্বয়ে রাষ্ট্রের সংগতি-সামর্থ্যের সাথে ভারসাম্য রক্ষা করে। কিন্তু ব্যক্তি-স্বাধীনতা প্রভৃতি civil liberty তথা গণতান্ত্রিক অধিকারসমূহ অবিলম্বে দেওয়া সম্ভব হলে সেগুলো মৌলিক অধিকারের অন্তর্ভুক্ত করাই অনেক বেশি যুক্তিসঙ্গত। অর্থাৎ, এখানে গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্রকে ক্রমান্বয়ে বাস্তবায়নযোগ্য বা Gradualist মতবাদ হিসেবে দেখার চেষ্টা হয়েছে। এর ‘গণতান্ত্রিক’ কনটেন্টকে তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ‘সমাজতান্ত্রিক’ কনটেন্টকে সংরক্ষণ করার দৃষ্টিকোণ যেটা বিধৃত হয়েছে সেটা দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিকোণ। গণতন্ত্রকে এখনই নিশ্চিত করতে হবে, সমাজতন্ত্র আসবে ধীরে ধীরে। এই  Gradualist অ্যাপ্রোচ মালিকানা সম্পর্কের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। যদিও সংবিধানে রাষ্ট্রীয়, সমবায়ী ও ব্যক্তিগত মালিকানা রাখা হয়েছে, তারপরও গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্রে দীর্ঘকালের জন্য ব্যক্তিগত মালিকানার প্রয়োজনীয়তা থেকে যাবে। চীনের সংবিধানের (অধ্যায়-২ সাধারণ নীতিমালা, ধারা-৫) উদ্ৃব্দতি দিয়ে আছাদুজ্জামান খান দেখালেন যে, সেখানে চার ধরনের মালিকানার অস্তিত্ব আছে- রাষ্ট্রীয় মালিকানা, সমবায়ী যৌথ মালিকানা, সাধারণ শ্রমজীবী মানুষের একান্ত নিজস্ব মালিকানা এবং পুঁজিবাদী মালিকানা। এই শেষোক্ত মালিকানা সম্পর্কে বেশ দীর্ঘ উদ্ধৃতি দিয়েছেন তিনি। তাতে বলা ছিল :
‘The policy of the state towards capitalist industry and commerce is to use, restrict and transform them. Through control exercised by organs of state administration, leadership by the state sector of the economy, and supervision by the masses of the workers, the state makes use of the positive aspects of capitalist industry and commerce which are beneficial to national welfare and the people’s livelihood, restricts their negative aspects which are detrimental to national welfare and the people’s livelihood, and encourages and guides their transformation of state-capitalist economy, gradually replacing capitalist ownership by the whole people.’

এসবের উদ্ধৃতি দিয়ে আছাদুজ্জামান খান এ রকম সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন :’আমাদের এখানেও পুঁজিবাদী শিল্প ও ব্যবসাকে প্রথমে  protect করে পর্যায়ক্রমে সেগুলোর বিলোপ সাধন করা হবে। আমরাও সেই নীতিই গ্রহণ করেছি। একেবারে তার সুনির্দিষ্ট অবস্থান :’সমাজতন্ত্র পর্যায়ক্রমে করতে হবে।’ কেননা, ‘আমাদের নিজস্ব সমাজতান্ত্রিক চিন্তাধারা আছে।’ তা ছাড়া ‘কার্ল মার্কস যা বলেছেন, তা চিরকাল সত্য হবে- তেমন কথা আর স্বীকৃত নয়।’ এবং সে কারণেই ‘মার্কসকে সর্বত্র কপি করা হয়নি।’ এই শেষোক্ত পয়েন্টটা ব্যাখ্যা করেছেন এভাবে :’বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন ব্যবস্থার অধীনে বিভিন্ন চিন্তাধারা নিয়ে বিভিন্ন মানবগোষ্ঠী সমাজতন্ত্রের পথে এগিয়ে চলেছে।’ এখানে মূল প্রশ্ন হলো, ‘আমরা সমাজতন্ত্রের পথে কোনো বাধা সৃষ্টি করেছি কি না?’ আছাদুজ্জামান মনে করেন, কোনো বাধার সৃষ্টি করা হয়নি। কেননা, রাষ্ট্র প্রয়োজন মনে করলে ‘কোনো ক্ষতিপূরণ দেওয়া ছাড়াই’ এবং ‘গণস্বার্থে’ কোনো সম্পত্তি ব্যক্তিগত মালিকানা থেকে রাষ্ট্রায়ত্ত (বা সমবায়ী) মালিকানায় নিয়ে আসতে পারেন :’সে জন্যেই আমি বলেছি যে, চীন বা অন্য কোনো দেশের চাইতে বেশি সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার ব্যবস্থা আমরা রেখেছি।’ বামপন্থি সমালোচকেরা (সংসদের ভেতরে ও বাইরে) খামোখাই এ নিয়ে মাঠ গরম করা বক্তৃতা দিয়ে বেড়াচ্ছেন!
সুবিদিত যে, বাহাত্তরের সংবিধানের সবচেয়ে তীব্র ‘বামপন্থি’ সমালোচনা এসেছিল গণপরিষদ সদস্য ন্যাপের সুরঞ্জিত সেনগুপ্তর কাছ থেকে। তবে সংসদের বাইরে থেকেও Dissent এসেছিল। তাতে একটি প্রবল মত ছিল, ‘সমাজতন্ত্রের ধারা’ সংবিধানে রাখার দরকারটাই বা কী? শুধুমাত্র গণতন্ত্র থাকলেই হলো। যুক্তিটা হলো, সত্যিকারের গণতন্ত্র কোনো সমাজে কার্যকর থাকলে সমাজতন্ত্র বা ধর্মনিরপেক্ষতা এসব কোনোটারই আলাদাভাবে রাখা দরকার হয় না। এ রকম একটি লিবারেল যুক্তি দিয়েছিলেন প্রবীণ রাজনীতিবিদ ও লেখক আবুল মনসুর আহমদ। ‘সত্যিকারের গণতন্ত্র’ বলতে কোন ধরনের গণতন্ত্র দরকার তা অবশ্য তিনি স্পষ্ট করেননি তার লেখায়। কিন্তু চার-স্তম্ভের বঙ্গবন্ধুর সাংবিধানিক আদর্শকে তিনি অপ্রয়োজনীয় মনে করেছেন এবং উক্ত চার দফাকে সংবিধানে সংযোজন করাকে সরাসরিভাবে ভুল পদক্ষেপ বলে বর্ণনা করেছেন। ‘শেখ মুজিব-নেতৃত্বের আওয়ামী লীগ পার্টির সর্বাপেক্ষা প্রশংসনীয় পদক্ষেপ ত্বরিত গতিতে দেশের শাসনতান্ত্রিক সংবিধান রচনা’ এ কথা বলার পর এর ‘বিধানিক ত্রুটি’ কোথায় তা তিনি নির্দেশ করলেন। ‘আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর’ গ্রন্থের লেখকের স্বভাবসুলভ ambiguous অবস্থান এখানেও পাওয়া যায়। একদিকে তিনি যা বলতেন, পরের মুহূর্তেই তিনি তার বিপরীতার্থক সম্ভাবনা দেখতে পেতেন। সংবিধান প্রশ্নে এসেও তার এই প্রবণতা চোখে পড়ে। একদিকে আবুল মনসুর আহমদ স্বীকার করে নিচ্ছেন, ‘ডেমোক্র্যাসি, সোশিয়ালিজম, ন্যাশনালিজম, সেকিউলারিজম :এই চারটিকে আমাদের রাষ্ট্রের মূলনীতি করা হইয়াছে। এর সব কয়টির আমি ঘোরতর সমর্থক। শুধু এমনি সমর্থক না, মূলনীতি হিসেবেও সমর্থক। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আধুনিক যুগের সব রাষ্ট্রকেই সেকিউলার ডেমোক্র্যাটিক নেশন-স্টেট হইতে হইবে।’ তার পরের বাক্যেই তিনি মত ঘুরিয়ে ফেললেন :’কিন্তু আমার মত এই যে, এর কোনোটাই সংবিধানে মূলনীতিরূপে উল্লিখিত হইবার বিষয় নয়। গণতন্ত্র ছাড়া আর বাকি সব কটিই সরকারি নীতি; রাষ্ট্রীয় নীতি নয়। দেশে ঠিকমতো গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হইলেই আর সব ভালো কাজ নিশ্চিত হইয়া যায়।’ এই ‘ঠিকমত গণতন্ত্র’-এর স্বরূপ অবশ্য লেখক এখানেও প্রকাশ করেননি। তবে শুধু গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা পেলেই আর সমাজবাদের আলাদা উল্লেখের আবশ্যিকতা থাকে না- এ যুক্তি আজ পাশ্চাত্যের কোনো লিবারেল তাত্ত্বিকই জোর গলায় বলার সাহস পান না। দার্শনিক জন রাউলস বা অমর্ত্য সেনরা তাহলে ন্যায়পরায়ণ সমাজের কথা কেন আলাদা করে আলোচনা করবেন, বা গণতন্ত্রের পাশাপাশি ‘আইডিয়া অব জাস্টিস’-এর কথা তুলবেন কেন?
যা হোক, আবুল মনসুর আহমদ সে ধরনের যুক্তি-চর্চায় গেলেন না। তিনি ‘অকাট্য প্রমাণ’ হাজির করলেন তার পরিবর্তে (পাঠক লক্ষ্য করুন যে তিনি সচেতনভাবে সমাজতন্ত্র শব্দটি এড়িয়ে ‘সমাজবাদ’ শব্দটিকে ব্যবহার করছেন) :’এই ধরনের একটি বিচ্যুতির কথা বলিয়াই আমি আমাদের সংবিধান রচয়িতাদের ত্রুটির প্রমাণ দিতেছি। এটা সমাজবাদের বিধান। সমাজবাদ একটা অর্থনীতি। এটাকে সংবিধানের মূলনীতি করার কোনো দরকার ছিল না। যে কোনো গণতন্ত্রী পার্টি যদি সমাজবাদ প্রতিষ্ঠাকে তাদের পার্টি-প্রোগ্রাম রূপে গ্রহণ করেন, তবে বাংলাদেশের মতো অনুন্নত দেশের জনগণের বিপুল সমর্থন তারা পাইবেনই। তবু আওয়ামী লীগ পার্টি অনাবশ্যকভাবে সমাজবাদকে সংবিধানের মূলনীতি রূপে গ্রহণ করিয়াছেন।’ এবং এ জন্যে তিনি সাক্ষী মেনেছেন ভারতের নেতা নেহরুকে। কথাটা আংশিক সত্যি। নেহরু-আম্বেদকরের ১৯৫১ সালের সংবিধানে সরাসরি সমাজতন্ত্রের কথা মূলনীতি হিসেবে ছিল না। ধর্মনিরপেক্ষতার কথাও ছিল না। আমরা আগেই দেখেছি, এই দুটি শব্দ ইন্দিরা গান্ধীর শাসনামলে ১৯৭৬ সালে সংযোজিত হয় মূলনীতি হিসেবে ভারতীয় সংবিধানের ৪২তম সংশোধনীর মাধ্যমে। কিন্তু আবুল মনসুর আহমদ অন্তত এটুকু যোগ করতে পারতেন যে, নেহরু-আম্বেদকরের মূল সংবিধানেই চৎবধসনষব-এ যুক্ত হয়েছিল ৪টি মূলনীতি :
Preamble- :
Justice (social, economic and political), (Liberty of thought, expression, belief, faith and worship), Equality (of status and of opportunity), and Fraternity (assuring  the dignity of individual)। এর মধ্যে  Liberty এবং Fraternity বাদ দিলে Justice এবং Equality সংক্রান্ত ঘোষণা দুটি ছিল সরাসরি ‘সমাজবাদ’ তথা সমতামুখীন সমাজের আকাঙ্ক্ষার সাথে সরাসরিভাবে সম্পর্কিত।
স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবুল মনসুর আহমদের কিছু ত্রুটিও হয়েছে বঙ্গবন্ধুর চার-আদর্শকে নিয়ে। তার লেখায় তিনি প্রকারান্তরে দাবি করেছেন- সংবিধানে সংযোজনের আগে আওয়ামী লীগের আর কোনো মেনিফেস্টোতে সমাজতন্ত্রের উল্লেখ ছিল না। ইতোপূর্বে আমি দেখাবার চেষ্টা করেছি, ‘অর্থনৈতিক আদর্শ’ হিসেবে আওয়ামী লীগের দলিলে সমাজতান্ত্রিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার কথা সরাসরিভাবে সন্নিবেশিত হয়েছিল বেশ আগে থাকতেই। ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’ শব্দটি অবশ্য রাজনৈতিক vocabularyতে আসে মুক্তিযুদ্ধের নয় মাসের বক্তব্য-বিবৃতি-ভাষণে (এর আগে শুধু অসাম্প্রদায়িকতা ও কোনো ধর্মের বিরুদ্ধে বৈষম্য না করার কথা ছিল)। লেখক এই মতে পৌঁছাচ্ছেন যে, বঙ্গবন্ধুর চার-আদর্শ মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়নি এবং সংবিধানের প্রণেতারা এই দাবি করে বরং সত্যের অপলাপ করেছেন। লেখকের বক্তব্য হচ্ছে, ‘আমাদের সংবিধান রচয়িতারা নিজেরা ওই মহান আদর্শকে সংবিধানভুক্ত করিবার ইচ্ছা করিয়াছিলেন। তাই জনগণ ও মুক্তিযোদ্ধাদের নামে ওই ভুল তথ্য পরিবেশন করিয়াছেন।’ এটা পড়লে লেখকের তথ্যনিষ্ঠা সম্পর্কে কিছুটা সন্দেহ না জেগে পারে না। কেননা, মুক্তিযুদ্ধের পূর্বাপর রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার ভেতর দিয়েই বঙ্গবন্ধুর চার আদর্শের অবয়ব কালক্রমে স্পষ্ট হয়ে ফুটে উঠেছিল।
আবুল মনসুর আহমদের সংবিধানের ওপর উপরোক্ত সমালোচনা এসেছিল ‘ডান দিক’ থেকে। অর্থাৎ লিবারেল বা উদারনৈতিক গণতন্ত্রী দৃষ্টিকোণ থেকে। তবে, ‘বাম দিক’ থেকেও সেদিন সংবিধানের ওপরে অনেক সমালোচনা এসেছিল। সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত সংসদের ভেতরে থেকে সেসব সমালোচনার অনেকটাই উত্থাপন করেছিলেন। সংসদের বাইরে থেকে বামপন্থি দলগুলোও যার যার মতো করে সেসব প্রশ্ন উত্থাপন করেছিল। কোনটা রাষ্ট্রের মূলনীতি আর কোন কোন দাবি রাষ্ট্রের মৌলিক অধিকার অধ্যায়ে অন্তর্ভুক্ত হবার দাবি রাখে- এ নিয়ে সেদিন জোর তর্ক-বিতর্ক উঠেছিল। তবে বামধারার অধিকাংশ সমালোচকই (আমি ন্যাপ-সিপিবি ঘরানার কথা বলছি) সেদিনের গণপরিষদের অভিপ্রায় নিয়ে প্রশ্ন তোলেননি। পরবর্তীকালে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের সাথে সাথে এবং দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিবর্তন বা প্রাতিষ্ঠানিক evolution-এর সাথে সাথে ১৯৭২ সালের সংবিধানকে বিচার করার দৃষ্টিভঙ্গিও বদল হতে পারে কারও কারও ক্ষেত্রে। ২০০০ সালে প্রকাশিত ‘বাঙালির জাতীয়তাবাদ’ বইতে অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী তার সংশয় ব্যক্ত করেছেন এভাবে :’রাষ্ট্রীয় মূলনীতিতে সমাজতন্ত্রের অন্তর্ভুক্তিতে আওয়ামী লীগের যে অত্যন্ত উৎসাহ ছিল, তা মোটেই নয়।… সত্তরের নির্বাচনের সময়েই আওয়ামী লীগ প্রথমবারের মতো সমাজতন্ত্রের কথা বলে; সমাজে শোষণ থাকবে না এবং অর্থনীতির লক্ষ্য হবে সমাজতন্ত্র অভিমুখী- এই অঙ্গীকার ব্যক্ত করে। ওই লক্ষ্যে ব্যাংক-বীমা-বৃহৎ শিল্প জাতীয়করণ, ভূমি সংস্কারের মাধ্যমে ভূমিহীনদের কাছে জমি পৌঁছে দেওয়া, কর ও ভূমি রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় সংস্কার ইত্যাদি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি নির্বাচনী ঘোষণাতে ছিল। কিন্তু এসব প্রতিশ্রুতি আন্তরিক ছিল- এমন মনে করার কোনো কারণ নেই। এগুলো দেওয়া হয়েছিল নিতান্ত বাধ্য হয়ে। নির্বাচনে জনগণের সমর্থন পেতে হলে জনগণের পক্ষে না বলে উপায় থাকে না। তা ছাড়া বামপন্থি দলগুলো সমাজতন্ত্রের কথা বলে জনগণকে নিজেদের দিকে টেনে নেবে- এমন আশঙ্কাও ছিল।’
[ক্রমশ]https://googleads.g.doubleclick.net/pagead/ads?client=ca-pub-9442091006829624&output=html&h=250&slotname=9443271832&adk=1331586746&adf=832419000&pi=t.ma~as.9443271832&w=300&lmt=1628144762&psa=1&format=300×250&url=https%3A%2F%2Fwww.samakal.com%2Fnational-election-2018%2Farticle%2F210149669%2F%25E0%25A6%25AC%25E0%25A6%2599%25E0%25A7%258D%25E0%25A6%2597%25E0%25A6%25AC%25E0%25A6%25A8%25E0%25A7%258D%25E0%25A6%25A7%25E0%25A7%2581%25E0%25A6%25B0-%25E0%25A6%2597%25E0%25A6%25A3%25E0%25A6%25A4%25E0%25A6%25BE%25E0%25A6%25A8%25E0%25A7%258D%25E0%25A6%25A4%25E0%25A7%258D%25E0%25A6%25B0%25E0%25A6%25BF%25E0%25A6%2595-%25E0%25A6%25B8%25E0%25A6%25AE%25E0%25A6%25BE%25E0%25A6%259C%25E0%25A6%25A4%25E0%25A6%25A8%25E0%25A7%258D%25E0%25A6%25A4%25E0%25A7%258D%25E0%25A6%25B0-%25E0%25A6%25AC%25E0%25A6%25BE%25E0%25A6%25B9%25E0%25A6%25BE%25E0%25A6%25A4%25E0%25A7%258D%25E0%25A6%25A4%25E0%25A6%25B0%25E0%25A7%2587%25E0%25A6%25B0-%25E0%25A6%25B8%25E0%25A6%2582%25E0%25A6%25AC%25E0%25A6%25BF%25E0%25A6%25A7%25E0%25A6%25BE%25E0%25A6%25A8-%25E0%25A6%2593-%25E0%25A6%25B8%25E0%25A6%25AE%25E0%25A6%25A4%25E0%25A6%25BE%25E0%25A6%25AE%25E0%25A7%2581%25E0%25A6%2596%25E0%25A7%2580-%25E0%25A6%25B8%25E0%25A6%25AE%25E0%25A6%25BE%25E0%25A6%259C%25E0%25A7%2587%25E0%25A6%25B0-%25E0%25A6%2586%25E0%25A6%2595%25E0%25A6%25BE%25E0%25A6%2599%25E0%25A7%258D%25E0%25A6%2595%25E0%25A7%258D%25E0%25A6%25B7%25E0%25A6%25BE&flash=0&wgl=1&adsid=ChAI8PWoiAYQhMehqNPvj6IvEjwAD2iaZOefh47pms1-Z9eHrb6_E-7agz-dJRdprKBDHvePmXdx3PSW_dboDZyJ9AptOOxy35t6YCGZlGI&uach=WyJXaW5kb3dzIiwiMTAuMCIsIng4NiIsIiIsIjkyLjAuNDUxNS4xMDciLFtdLG51bGwsbnVsbCxudWxsXQ..&tt_state=W3siaXNzdWVyT3JpZ2luIjoiaHR0cHM6Ly9hdHRlc3RhdGlvbi5hbmRyb2lkLmNvbSIsInN0YXRlIjo3fV0.&dt=1628144726881&bpp=1&bdt=1182&idt=403&shv=r20210802&mjsv=m202108040201&ptt=9&saldr=aa&abxe=1&cookie=ID%3D41f465110656505a-22353dcdafca0002%3AT%3D1628144727%3ART%3D1628144727%3AS%3DALNI_MYweFHM8DCHnzhgcM7jCgXB3R4IKw&prev_fmts=0x0%2C300x250%2C300x250%2C304x250%2C300x250&nras=1&correlator=2247964085113&frm=20&pv=1&ga_vid=1203111009.1628143455&ga_sid=1628144727&ga_hid=1291477603&ga_fc=0&u_tz=360&u_his=1&u_java=0&u_h=1080&u_w=1920&u_ah=1040&u_aw=1920&u_cd=24&u_nplug=3&u_nmime=4&adx=643&ady=4476&biw=1903&bih=937&scr_x=0&scr_y=745&eid=20211866%2C21067496&oid=3&pvsid=418908138783655&pem=873&ref=https%3A%2F%2Fsamakal.com%2F&eae=0&fc=1920&brdim=0%2C0%2C0%2C0%2C1920%2C0%2C1920%2C1040%2C1920%2C937&vis=1&rsz=%7Co%7CoeEbr%7C&abl=NS&pfx=0&fu=0&bc=31&ifi=4&uci=a!4&btvi=3&fsb=1&xpc=9c8dTasLvk&p=https%3A//www.samakal.com&dtd=35549

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s