পভার্টি ট্র্যাপ ও আকাঙ্ক্ষার দারিদ্র্য: সিলেটে রবীন্দ্রনাথের ভাষণ (Poverty Trap and Poverty of Aspiration: Tagore in Sylhet)

পর্ব ::৩৩

৫. আকাঙ্ক্ষার দারিদ্র্য

কিন্তু শ্রীহট্ট কলেজে তার ভাষণের উদ্দেশ্য ছিল অন্যত্র নিহিত। আন্তর্জাতিক রাজনীতি নয়, উন্নয়নের দৃষ্টিকোণকেই রবীন্দ্রনাথ সেখানে বেশি করে প্রাধান্য দিয়েছেন। দরিদ্ররা যে চিরকালেই দারিদ্র্যের ফাঁদে থেকে যায়, তার মূল কারণের মধ্যে ‘আকাঙ্ক্ষার দারিদ্র্য’ও একটি। সাম্প্রতিক উন্নয়ন অর্থশাস্ত্রেও ‘পভার্টি অব এসপিরেশন’ একটি স্বীকৃত ধারণা। নোবেল বিজয়ী বাঙালি অর্থনীতিবিদ অভিজিৎ ব্যানার্জি ও তার সহকর্মীদের একটি বড় পর্যবেক্ষণ হলো- গরিবরা গরিব শুধু তাদের বৈষয়িক অবস্থার কারণে নয়, এর মূলে রয়েছে তাদের উপরে-ওঠার উচ্চাকাঙ্খার অভাব। একবার সেই আকাঙ্খাকে প্ররোচিত করতে পারলে-সেটা ‘ক্ষুদ্র প্রণোদনা’ দিয়েই অর্জন সম্ভবুদরিদ্রের মৃদুমন্দ চলাকে বৃহৎ উল্লম্ম্ফনে পরিবর্তন করা যায়। এটাকে অর্থনীতিবিদেরা বলেছেন-‘উদ্বুদ্ধকরণের অর্থনীতি’ বা nudge-economics. যার মাধ্যমে গরিব মানুষের আচরণ-কার্যকলাপের ধরন-ধারণা পরিবর্তন করা সম্ভব। যাতে করে তারা দারিদ্র্যের ফাঁদ থেকে মুক্তি পেতে পারে। রবীন্দ্রনাথ আজ থেকে একশো বছর আগেই এই দারিদ্র্য-ফাঁদের তত্ত্ব উপলব্ধি করেছিলেন। তিনি শ্রীহট্ট ভাষণে সেদিন বলেছিলেন :’যদি মূলের দিকে তাকিয়ে দেখি তাহলে দেখব আমাদের যে দারিদ্র্য সে আত্মারই দারিদ্র্য। …নদী যখন মরে যায় তখন দেখতে পাই গর্ত এবং বালি, সেই শূন্যতার সেই শুস্কতার অস্তিত্ব নিয়ে বিলাপ করবার কথা নেই। আসল বিলাপের কারণ নদীর সচল ধারার অভাব নিয়ে। আত্মার সচল প্রবাহ যখন শুস্ক তখনি আচারের নীরস নিশ্চলতা।’

আচারের নিশ্চলতা আসে গতানুগতিকতার বৃত্তে নিজেকে বেঁধে ফেলার মানসিকতার কারণে। রবীন্দ্রনাথ এর কারণ অন্যত্র দেখেছিলেন আমাদের বহুধা-বিভক্ত জাত-পাতসর্বস্ব ধর্মাচারের মধ্যে। ‘আকাঙ্ক্ষা’ প্রবন্ধে তিনি গুরুত্ব আরোপ করেছেন শিক্ষা-ব্যবস্থার দীনতা নিয়ে। কোন জাতিকে যদি ধ্বংস করে দিতে চাও তাহলে তার শিক্ষা-ব্যবস্থাকে ভেতর-থেকে ধ্বংস করে দাও- এই ছিল তার মত। রবীন্দ্রনাথ বলেছেন এ প্রসঙ্গে :’আমাদের আকাঙ্ক্ষাকে শিশুকাল থেকেই কোমর বেঁধে আমরা খর্ব করি। অর্থাৎ সেটাকে কাজে খাটাবার আগেই তাকে খাটো করে দিই। অনেক সময়ে বড় বয়সে সংসারের ঝড়-ঝাপটার মধ্যে পড়ে আমাদের আকাঙ্খার পাখা জীর্ণ হয়ে যায়। তখন আমাদের বিষয়বুদ্ধি, অর্থাৎ ছোট বুদ্ধিটাই বড় হয়ে ওঠে। কিন্তু আমাদের দুর্ভাগ্য এই যে, শিশুকাল থেকেই আমরা বড় রাস্তায় চলবার পাথেয় ভার হালকা করে দিই।’

এই বলে রবীন্দ্রনাথ তার নিজের গড়া শান্তিনিকেতনের উদাহরণ টেনে আনলেন। সেখানেও কিছুতেই ছাত্র-ছাত্রীদের পুঁথিগত বিদ্যার প্রভাব থেকে সরিয়ে আনা যাচ্ছিল না। ‘নিজের বিদ্যালয়ে ছোট ছোট বালকদের মধ্যেই সেটা আমি অনুভব করি। প্রথমে কয় বৎসর একরকম বেশ চলে কিন্তু ছেলেরা যেই থার্ড ক্লাসে গিয়ে পৌঁছয় অমনি বিদ্যা অর্জন সম্বন্ধে তাদের বিষয়বুদ্ধি জেগে ওঠে। অমনি তারা হিসাব করতে শিখতে বসে। তখন থেকে তারা বলতে আরম্ভ করে, আমরা শিখব না, আমরা পাস করব। অর্থাৎ যে পথে যথাসম্ভব কম জেনে যতদূর সম্ভব বেশি মার্ক পাওয়া যায় আমরা সেই পথে চলব।’

একেই অর্থনীতিবিদ ল্যান্ট প্রিচেট আখ্যায়িত করেছেন ‘জানার সংকট’ বা লার্নিং ক্রাইসিস বলে। আমরা ডিগ্রি পাচ্ছি, কিন্তু যা জানা দরকার ছিল তা জানছি না। রবীন্দ্রনাথ একে কেবল উন্নতমানের শিক্ষা-পদ্ধতি বা ‘কোয়ালিটি এডুকেশন’-এর সমস্যা হিসেবে দেখছেন না। বেশি করে জানার ইচ্ছাটাই মরে যাচ্ছে, বিশেষ করে এটা মরে যাচ্ছে গরিব জনগোষ্ঠীর জন্য। কোন ভাবে পাশ করে সরকারী চাকুরে হওয়ার ইঁদুর-দৌড়ে গরিব-মধ্যবিত্ত সবাই নিয়োজিত। জানার জন্য জানা- এই আকাঙ্খা প্রায় উঠেই যাচ্ছে। এ-ই হচ্ছে রবীন্দ্রনাথের চরম দুর্ভাবনা।

শিক্ষার নানা আনুষ্ঠানিক ধাপ অতিক্রম করা হচ্ছে, কিন্তু জ্ঞান বাড়ছে না, ‘জানার সংকট’ থেকে যাচ্ছে- এর ফলে একভাবে দেখলে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে পড়লেও দেশ থেকে অন্ধকার দূর হচ্ছে না। দেশের উন্নয়নে এই শিক্ষা যথাযথ অবদান রাখতে পারছে না। আর সেটা দেখে যারা দেশের বাজেট প্রণয়ন করেন, তারা শিক্ষার পেছনে বাজেট-বরাদ্দ বাড়াতে আগ্রহী হচ্ছেন না। এক ধরনের বিষ-বৃত্তের সৃষ্টি হচ্ছে এতে। শুধু পরীক্ষা-পাসের শিক্ষায় ব্যক্তিগত বা পারিবারিক অবস্থার উন্নতি হতে পারে; কিন্তু দেশ ও দশের উন্নয়ন বেগবান হয় কিনা- সে প্রশ্নে রবীন্দ্রনাথের সংশয় ছিল। এ নিয়ে রবীন্দ্রনাথ ‘আকাঙ্ক্ষা’ ভাষণে স্পষ্ট করে তার ভিন্নমত উত্থাপন করেছেন : ‘যে দেশে বিদ্যালয়ে কেবল দেখতে পাই, ছাত্র নোটবুকের পত্রপুট মেলে ধরে বিদ্যার মুষ্টি ভিক্ষা করছে, কিম্বা পরীক্ষার পাসের দিকে তাকিয়ে টেক্‌স্‌ট্‌ বইয়ের পাতায় পাতায় বিদ্যার উঞ্ছবৃত্তিতে নিযুক্ত; যে দেশে মানুষের বড় প্রয়োজনের সামগ্রী মাত্রেই পরের কাছে ভিক্ষা করে সংগ্রহ করা হচ্ছে, নিজের হাতে দেশের লোকে দেশকে কিছুই দিচ্ছে না- না স্বাস্থ্য, না অন্ন, না জ্ঞান, না শক্তি; যে দেশে কর্মের ক্ষেত্রে সংকীর্ণ, কর্মের চেষ্টা দুর্বল, যে দেশে শিল্পকলায় মানুষ আপন প্রাণ মন আত্মার আনন্দকে নব নব রূপে সৃষ্টি করছে না; যে দেশে অভ্যাসের বন্ধনে সংস্কারের জালে মানুষের মন এবং অনুষ্ঠান বদ্ধবিজড়িত; যে দেশে প্রশ্ন করা, বিচার করা, নূতন করে চিন্তা করা, ও সেই চিন্তা ব্যবহারে প্রয়োগ করা কেবল যে নেই তা নয় সেটা নিষিদ্ধ এবং নিন্দনীয়, সেই দেশে আপন সমাজে আত্মাকে দেখতে পায় না, কেবল হাতের হাতকড়া, পায়ের বেড়ি এবং মৃতযুগের আবর্জনা-রাশিকেই চারদিকে দেখতে পায়, জড় বিধিকে দেখে, জাগ্রত বিধাতাকে দেখে না।’

পরীক্ষা-পাসের দাসত্ব থেকে জানার বা জ্ঞানের সংকট শুধু আর শিক্ষা ক্ষেত্রের দীনতায় সীমিত রইল না। এই শিক্ষার সংকটের কারণে ভিন্ন রুচির মানুষের জন্ম হলো, যার হাত দিয়ে উন্নয়ন বেগবান করা প্রায় অসম্ভব। এ কথা রবীন্দ্রনাথ অন্যান্য লেখাতেও নানাভাবে বলেছেন। শিক্ষাকে তাৎক্ষণিকের প্রয়োজন মেটাতে ব্যবহার করতে চাইলে হিতে বিপরীত ঘটে। রবীন্দ্রনাথের ‘তোতাকাহিনী’ এ প্রসঙ্গে মনে পড়বে। ‘আকাঙ্ক্ষা’ শীর্ষক ভাষণের দু’বছর পূর্বে ‘সবুজপত্র’ সাময়িকীতে প্রকাশিত রূপক-গল্পে তিনি লিখেছিলেন :’এক যে ছিল পাখি। সে ছিল মূর্খ। সে গান গাহিত; শাস্ত্র পড়িত না। লাফাইত, উড়িত; জানিত না কায়দাকানুন কাকে বলে। রাজা বলিলেন, ‘এমন পাখি তো কাজে লাগে না, অথচ বনের ফল খাইয়া রাজহাটে ফলের বাজারে লোকসান ঘটায়।’ মন্ত্রীকে ডাকিয়া বলিলেন, ‘পাখিটাকে শিক্ষা দাও।’ এর ফল কী হয়েছিল, তা আমাদের জানা। পাখিকে পুঁথি-শিক্ষা দিতে গিয়ে রাশি রাশি পুঁথির পাতা তাকে গেলানো হলো। জীবনাবসান হলো তার এক পর্যায়ে। পরীক্ষা-পাসের তাড়নায় একালের ছাত্র-ছাত্রীদেরও তোতাকাহিনীর পাখির দশা হওয়ার উপক্রম। তাদের অন্তরাত্মা শুকিয়ে যেতে বসেছে, মহৎ কিছু করার স্বপ্ন প্রায় অবলুপ্ত। রবীন্দ্রনাথ যে-যুগে এসব কথা বলেছিলেন, আজ সে কথা এই ‘ম্যাস এডুকেশন’-এর যুগে আরো প্রাসঙ্গিক। জনমানসে শিক্ষার যে বাসনা জেগেছে, সেটাকে যেমন বিবেচনায় নিতে হবে, কীভাবে শিক্ষার সাধনাকে অন্তত দেশের শ্রেষ্ঠ বিদ্যায়তনগুলোতে উৎসাহিত করা যায় সেদিকটি নিয়েও রবীন্দ্রনাথ আমাদের ভাবতে বলেছেন। এ প্রেক্ষিতে তিনি ‘নালন্দা বিক্রমশীলা তক্ষশীলা’র উদাহরণ টেনে বিশ্ববিদ্যালয়কে তত্ত্বজ্ঞানীদের মিলনক্ষেত্র করে গড়ে তুলতে চেয়েছেন; আবার অন্যদিকে যারা উচ্চশিক্ষার সোপানে উন্নীত হবে না, তাদের জন্য বৃত্তিমূলক শিক্ষার বিস্তার চেয়েছেন। জ্ঞানের বৈষয়িক দিককে তিনি অস্বীকার করেন নি। তিনি জ্ঞানের সাধনার দিকের সর্বাত্মক বিকাশ চেয়েছিলেন কেবল। ইউরোপের ছকে নয়, আমাদের দেশের আদলে আমাদের প্রয়োজন মাথায় রেখে আমরা যেন বিদ্যায়তন গড়ে তুলি; সেটা তিনি চেয়েছিলেন। অথচ আমরা একে একে দেশের উচ্চ বিদ্যায়তনগুলো শেষ করে দিচ্ছি। রবীন্দ্রনাথ দুঃখ করে বলেছেন: ‘যে-জ্ঞান আমাদের সত্যের দিকে নিয়ে যায় গোড়া থেকেই সেই জ্ঞানের সঙ্গে অসত্য ব্যবহার। এর কি অভিশাপ আমাদের দেশের পরে লাগছে না? এই জন্যেই কি জ্ঞানের যজ্ঞে আমরা ভিক্ষার ঝুলি হাতে দূরে বাইরে বসে নেই? আপিসের বড় বাবু হয়েই কি আমাদের এই অপমান ঘুচবে? …সব বড় দেশে যে বড় আকাঙ্ক্ষা মানুষকে আপন শক্তিতে আপন ভাবনায় আপন হাতে সৃষ্টি করবারই গৌরব দান করে আমরা সেই আকাঙ্ক্ষাকেই কেবল যে বিসর্জন করছি তা নয়, দল বেঁধে লোক ডেকে বিসর্জনের ঢাক পিটিয়ে সেই তালে তাণ্ডব নৃত্য করছি।’ এখনো সেই তাণ্ডব নৃত্যই আমাদেরকে দেখতে হচ্ছে।

৬. আকাঙ্ক্ষার দারিদ্র্য থেকে পরনির্ভরতা

একশো বছর আগে সিলেটে রবীন্দ্রনাথ যে আকাঙ্ক্ষার দারিদ্র্যের কথা বলেছিলেন, তার ফলে শুধু চাকরি খোঁজা তরুণ সম্প্রদায়েরই সৃষ্টি হচ্ছে না, ‘বড় কিছু’ করার ইচ্ছেও আমরা হারিয়ে ফেলেছি। এর থেকে জন্ম নিয়েছে এক অভূতপূর্ব পরনির্ভরশীল মানসিকতার। সিলেটে আসার কয়েক বছর আগে একটি প্রবন্ধে তিনি ভরসার ও উচ্চাকাঙ্ক্ষার অভাবের কথা সবিস্তারে উল্লেখ করেছিলেন :

“আমাদের দুর্ভাগ্য এই যে, অপরে আমাদের শক্তি সম্বন্ধে সর্বদা সন্দেহ প্রকাশ করে বলিয়াই এবং সেই সন্দেহকে মিথ্যা প্রমাণ করিবার কোনো ক্ষেত্র পাই না বলিয়াই অন্তরে তন্তরে নিজের সম্বন্ধেও একটা সন্দেহ বদ্ধমূল হইয়া যায়। এমনি করিয়া আপনার প্রতি যে লোক বিশ্বাস হারায় সে কোনো বড়ো নদী পাড়ি দিবার চেষ্টা পর্যন্তও করিতে পারে না; অতি ক্ষুদ্র সীমানার মধ্যে ডাঙ্গার কাছে কাছে সে ঘুরিয়া বেড়ায় এবং তাহাতেই সে সম্পূর্ণ সন্তুষ্ট থাকে এবং যেদিন সে কোনো গতিকে কাগবাজার হইতে বরানগর পর্যন্ত উজান ঠেলিয়া যাইতে পারে সেদিন সে মনে করে, ‘আমি অবিকল কলম্বাসের সমতুল্য কীর্তি করিয়াছি।”

চাকরি লাভের জন্য যে শিক্ষা তাতে শিক্ষার চেয়ে চাকরির প্রাপ্তিই বড় লক্ষ্য হয়ে ওঠে। রবীন্দ্রনাথ বলেছেন, ‘তুমি কেরানির চেয়ে বড়ো, ডেপুটি মুনসেফের চেয়ে বড়ো’- এটাই আমাদেরকে সবসময় মনে রাখতে হবে। কেননা, আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত জাতি হিসেবে, সমষ্টি হিসেবে, আরো উপরে, ঐ উপরে ওঠার।’ ‘পাখির ছানা তো বিএ পাস করিয়া উড়িতে শেখে না; উড়িতে পায় বলিয়াই উড়িতে শেখে।’ কিন্তু আমাদের উড়বার ইচ্ছেটাই মরে গেছে। এর ফল হয়েছে মারাত্মক। রাষ্ট্রজীবনে জ্ঞান-তপস্যার স্বীকৃতি ও গুরুত্ব কমে এসেছে। অনুকৃতিকেই আমরা পরম আরাধ্য বলে বিবেচনা করছি। এভাবে চললে দেশ হিসেবেও আমরা পিছিয়ে যাব, পেছনের সারিতে পড়ে থাকব চিরকাল। রবীন্দ্রনাথ জ্ঞানজগতের পরনির্ভরতাকে শেষের বিচারে আকাঙ্ক্ষার দারিদ্র্যের সাথে যুক্ত করে দেখেছেন। পুরো উদ্ৃব্দতিটা পাঠ করলে সে বিষয়ে কোনো সংশয় থাকে না :’যে ইতিহাস ইংরেজি কেতাবে পড়িয়াছি তাহাই আমাদের একমাত্র ইতিহাসের বিদ্যা, যে পলিটিক্যাল ইকোনমি মুখস্থ করিয়াছি তাহাই আমাদের একমাত্র পলিটিক্যাল ইকোনমি। যাহা কিছু পড়িয়াছি তাহা আমাদিগকে ভূতের মতো পাইয়া বসিয়াছে… আমরা মনে করিতেছি। পলিটিক্যাল সভ্যতা ছাড়া সভ্যতার আর কোনো আকার হইতেই পারে না।… মানুষ যদি এমন করিয়া শিক্ষার নীচে চাপা পড়িয়া যায়, সেটাকে কোনোমতেই মঙ্গল বলিতে পারি না।… আমরা জগতের ইতিহাসকে নিজের স্বতন্ত্র দৃষ্টিতে দেখিতে সাহস করিলাম কৈ, আমরা পলিটিক্যাল ইকোনমিকে নিজের স্বাধীন গবেষণার দ্বারা যাচাই করিলাম কোথায়?’

[এই বিষয় সমাপ্ত]

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s