[তুমুল গাঢ় সমাচার ৮] মিলের ভারতবর্ষ ও বঙ্কিমচন্দ্রের মিল (Mill’s India and Bankimchandra)

পর্ব ::৮

দীপেশ চক্রবর্তীর জন্য
এটি অনেকেই এর আগে লক্ষ্য করেছিলেন, বঙ্কিমচন্দ্র যেন এক ব্যক্তি নন। দুই বঙ্কিম একই সত্তার মধ্যে বিচরণ করছেন। যিনি লিখেছেন ‘বঙ্গদেশের কৃষক’, ‘সাম্য’ ও ‘কমলাকান্তের দপ্তর’-এর মতো প্রগতিশীল রচনা; তিনিই লিখেছেন ধর্মীয় জাতীয়তাবাদী তথা হিন্দুত্ববাদী ‘আনন্দমঠ’ ও ‘ধর্মতত্ত্ব’- ভাবা যায়! কেন এই বৈপরীত্য? এ যেন সত্তারই বিভক্তি। ড. জেকিল ও মি. হাইডের বাংলা কী, আমি জানি না। দুই বিখণ্ডিত সত্তা, যেখানে যুক্তি ও অযৌক্তিক দাবি এবং নির্মাণ পাশাপাশি চলছে কোনো রাখঢাক না করেই; কোনো স্ববিরোধিতা সম্পর্কে অবগত না হয়েই। এই লেখাটিতে আমি বলবার চেষ্টা করেছি যে, বঙ্কিমচন্দ্রের সত্তার এই বিভক্তি গোটা য়ুরোপীয় আধুনিকতা ও তৎসূত্রে প্রাপ্ত জাতীয়তাবাদী সত্তারই বিভক্তি। য়ুরোপীয় এনলাইটেনমেন্ট এই বিভক্তিকে ধারণ করেছিল। বঙ্কিমের মন্ত্রগুরু জন স্টুয়ার্ট মিলের মধ্যেও দেখি একই বিভাজন- যেখানে যুক্তি ও অযৌক্তিক, মানবিক ইনক্লুশন ও ঔপনিবেশিক এক্সক্লুশন, সভ্য আর অ-সভ্য জাতি ও জনগণের জন্য ভিন্ন নিয়ম-রীতি প্রয়োগের যুক্তি-তর্ক পাশাপাশি চলেছে। গুরু-শিষ্যের মধ্যকার এই মৌলিক মিল সম্পর্কে আলোকপাত করাই এ প্রবন্ধের মূল লক্ষ্য। একই সত্তার মধ্যে এই স্ববিরোধী আয়োজন এক সময় সৃষ্টি করে সত্তার ফাটল বা বিভক্তি, যা শেষ পর্যন্ত সংক্রমিত হয় পোস্ট-কলোনিয়াল রাষ্ট্র-সংবিধান-রাজনীতিতে।

১. মিলের ভারতবর্ষ

লর্ড মেঘনাদ দেশাইকে আমি একবার প্রশ্ন করেছিলাম, লিবারেল চিন্তক জন স্টুয়ার্ট মিল কী করে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির মতো জায়গায় বছরের পর বছর ধরে কাজ করে গেলেন? শুধু কাজ করা নয়, ১৮২৩ সালে ‘অ্যাসিস্ট্যান্ট একজামিনার’ হিসেবে ঢোকার পর থেকে মিল পদোন্নতি পেয়ে এক পর্যায়ে কোম্পানির সর্বোচ্চ পদে ‘চিফ একজামিনার’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হন। দেশাইকে আমি আরও জিজ্ঞেস করেছিলাম, মিলের ভারতবর্ষ সম্পর্কিত রচনাবলি তিনি খুঁটিয়ে পড়েছেন কি-না এবং সে সম্পর্কে তার অভিমতই বা কী? দেশাই শুধু আমাকে বলেছিলেন, ‘চিফ একজামিনার’ হিসেবে কোম্পানি শাসনের নীতিমালা ঠিক করার ক্ষেত্রে মিলের একটি প্রধান নীতি-নির্ধারণী ভূমিকা ছিল, যা মোটেই হেলাফেলা করার ব্যাপার নয়। তবে এ সম্পর্কে তার বিশেষ কিছু জানা নেই।

মিল যেসব ‘প্রগতিশীল’ ও ‘লিবারেল’ চিন্তারাজির স্বাক্ষর রেখে গেছেন, তা বিষয়-বৈচিত্র্য ও আয়তনে সত্যই বিস্ময়কর। ১৮৪৩ সালের ‘এ সিস্টেম অব লজিক’, ১৮৪৮ সালের ‘প্রিন্সিপল্‌স অব পলিটিক্যাল ইকোনমি’, ১৮৫৯ সালের ‘অন লিবার্টি’, ১৮৬১ সালের ‘কনসিডারেশনস অন রিপ্রেজেন্টেটিভ গভর্নমেন্ট’, ‘ইউটিলিটারিয়ানিজম’, ১৮৬৯ সালের ‘দ্য সাবজেকশন অব উইমেন’, ‘সোশ্যালিজম’ এবং ১৮৭৩ সালের ‘অটোবায়োগ্রাফি’ বিবেচনায় নিলে সন্দেহ থাকে না যে, মিলকে কেন উনিশ শতকের য়ুরোপীয় লিবারেল চিন্তার ইতিহাসে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বুদ্ধিজীবীদের মধ্যে দেখা হয়ে থাকে। এতে মিলের প্রচলিত রচনাকর্মের প্রেক্ষিতে সম্ভাব্য একাধিক কূটাভাস বা প্যারাডক্সের আভাস পাই। কূটাভাস অন্তত দুটো। প্রথমত, এত উদার চিন্তা যার, তিনি তার কর্মজীবন ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বৃত্তে কাটালেন কী করে? সেকালের ইউরোপের সূক্ষ্ণ নৈয়ায়িকদের মধ্যে যিনি অগ্রগণ্য তাকে এটা করতে গিয়ে কি নিত্যনতুন নৈতিক দ্বন্দ্বের মুখোমুখি হতে হয়নি? দ্বিতীয়ত, যদি যুক্তির খাতিরে ধরেই নিই, মাসিক স্থিতিশীল আয়-উপার্জনের পথ খোলা রাখার জন্য তাকে বেছে নিতে হয়েছিল কোম্পানির ‘চাকরি’, তাহলেও বাড়তি প্রশ্ন থেকে যায়। সেই বাড়তি প্রশ্নটি হচ্ছে, ভারতবর্ষ নিয়ে মিলের রচনাগুলোর মূল ঝোঁক নিয়ে। ঔপনিবেশিক শাসনে আবদ্ধ ভারতবর্ষেও দুঃখ-যন্ত্রণা লাঘব করার ক্ষেত্রে সেসব লেখা কাজ করেছিল কি-না? মিলের পক্ষ থেকে সেদিকে কোনো বিশেষ দৃষ্টি দেওয়া হয়েছিল কি-না? নাকি তিনিও ছিলেন প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে ঔপনিবেশিক শাসন-শোষণের হাতিয়ার কেবল?

ভারতবর্ষে ব্রিটিশ শাসন নিয়ে লিখতে গিয়ে মিল সব সময় ভাবতে চাইতেন, শাসক জনগোষ্ঠী যেহেতু জ্ঞান-বিজ্ঞান, সাহিত্য-অর্থনীতি, রাষ্ট্রক্ষমতা ও সমরকুশলে অপেক্ষাকৃত পরিণত ও দক্ষ জাতি, এবং এই অর্থে ‘সভ্য জাতি’, সেহেতু তাদের ওপরে নৈতিক দায়িত্ব এসে পড়ে বৈকি শাসিত ‘অসভ্য জনগোষ্ঠী’কে অন্ধকার যুগ থেকে টেনে তোলার। সাম্রাজ্যবাদ বলতে লুণ্ঠন-যুদ্ধ-শোষণের যে ক্ল্যাসিক চিত্র আমরা পাই, তা মিলের প্রকল্পের জন্য অতটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল না। যে উপনিবেশ এখনও সভ্য হয়নি, তাকে তার ভালোর জন্যই উন্নত জাতি কর্তৃক শাসিত হতে হবে, এবং শাসিত থেকেই ক্রমশ তাকে ‘উন্নতির উচ্চতর স্তরে উত্তরণ’-এর চেষ্টা করা হবে। মিল বলেছেন, ‘আমরা বলতে পারি না যে এই আদর্শ নীতি ইতিমধ্যে বাস্তবায়ন করা গেছে। কিন্তু এ রকম নীতি না গ্রহণ করলে সর্বোচ্চ নৈতিক আস্থাটুকু শাসক শ্রেণির ওপর থেকে উঠে যাবে।’ কোম্পানি শাসন থেকে সরাসরি ব্রিটিশ সরকারের শাসনের অধীনে ক্ষমতা-স্থানান্তরের প্রাক্কালে মিলকে অনেক প্রশ্ন করা হয়েছিল ব্রিটিশ পার্লামেন্টে। সেখানে মিল ভারতবর্ষের ওপর কোম্পানি শাসনের সপক্ষে জোরালো ওকালতি করেন। কোম্পানির প্রত্যক্ষ ও নিবিড় শাসনের চেয়ে অপ্রত্যক্ষ ও ‘দূরত্ব থেকে’ শাসনের ফলাফল শাসক ও শাসিত উভয়ের জন্যই ভালো হবে না- এমনটাই ছিল তার অভিমত। ভারতবর্ষ শাসন করা সাধারণ আমলাতন্ত্রের দ্বারা সহজসাধ্য হবে না। কেননা, মিলের মতে, ভারত-বিদ্যা দর্শন, অর্থশাস্ত্র, বিজ্ঞান প্রভৃতি জ্ঞানকাণ্ডের মতোই একটি ‘বিশেষ বিদ্যা’, বিশেষ অভিনিবেশের দাবি করে, যা প্রথাগত ব্রিটিশ আমলাতন্ত্রের আয়ত্তে নেই, এবং যেটা শুধু আয়ত্ত করা সম্ভব ভারতবর্ষ বিষয়ে বিশেষভাবে উৎসর্গীকৃত একটি পরিচালনামণ্ডলীর মাধ্যমেই। আর সেটা কোম্পানি-শাসনের মাধ্যমেই শুধু অর্জন সম্ভব। মিলকে তখন এ প্রশ্নও করা হয়েছিল- রাজকার্যে নেটিভদের অংশগ্রহণ সম্পর্কে তার মত কী? নেটিভরা কি ঔপনিবেশিক সরকারের উচ্চতর বা উচ্চতম পর্যায়ে কখনো যেতে পারবে, বা সেটা হলে ইংরেজ রাজশক্তির ওপর ‘নির্ভরশীলতার’ অবস্থা তখন কোথায় দাঁড়াবে? এ ক্ষেত্রে তার স্পষ্ট উত্তর ছিল, প্রথমত, নেটিভদের যোগ্য করে তুলতে যাবতীয় প্রচেষ্টা নিতে হবে, এবং নেটিভদের মধ্যে যোগ্য লোক পাওয়া গেলে উচ্চতর পর্যায়েও তাদেরকে নিয়োগ দেওয়া উচিত। দ্বিতীয়ত, ‘এখনও যদিও ভারতবর্ষ সে’ অবস্থায় পৌঁছায়নি, কিন্তু একদিন যাতে সে অবস্থায় পৌঁছায় সে চেষ্টা শাসকদের তরফ থেকে থাকতে হবে।’ নইলে তাদের বর্তমান (ঔপনিবেশিক) শাসনের পক্ষে ‘নৈতিক কোনো যুক্তি’ থাকে না। অবশ্য মিল এ ক্ষেত্রে উচ্চতর পর্যায়ে ‘সামরিক’ ও ‘বেসামরিক’ নিযুক্তির মধ্যে পার্থক্য নির্ণয় করেছিলেন :’সামরিক বাহিনী পরিচালনার ক্ষেত্রে নেটিভদের বিজড়িত করা যায় না। কেননা, সে ক্ষেত্রে ব্র্রিটিশ রাজত্ব বজায় রাখা সম্ভবপর হবে না। তবে সিভিল প্রশাসনের এক বড় অংশ নেটিভদের জন্য খুলে দেওয়া খুবই সম্ভব; কোনোরূপ ঝুঁকি ছাড়াই।’ লেজিসলেটিভ কাউন্সিলের সদস্য করা যায় কি-না- এ প্রশ্নের উত্তরে মিল বলেছিলেন, ‘নেটিভদের থেকে গভর্নর জেনারেল হয়তো কাউকে বানানো যাবে না, তবে সময়ের সাথে সাথে অনেক উচ্চতর পদেই তাদেরকে নিয়োগ দেওয়া যেতে পারে। আশা করা যায়, ততদিনে তারা এসব পদে যাওয়ার জন্য যোগ্য ও বিশ্বস্ত হয়ে উঠবে। এ রকম একটি পরিবর্তন আনা শুধু সম্ভবই না; আমাদের ওপরে দায়িত্বও এসে বর্তায় এ রকম কিছু করার।’ সে প্রেক্ষিতে ভারতে ব্রিটিশ শাসনের পরিণতি কোথায় গিয়ে ঠেকবে- এ প্রশ্নের জবাবে মিলের উত্তর ছিল- ‘এ রকম অবস্থাতেও ভারতে ব্রিটিশ শাসন অব্যাহত থাকবে যদি আমরা সতর্কতার সাথে বিষয়টা পরিচালনা করতে পারি, অন্তত ততদিন পর্যন্ত, যতদিন-না নেটিভরা আমাদের সাহায্য ছাড়াই অনুরূপ সরকার ব্যবস্থা চালানোর ক্ষেত্রে উপযুক্ত হয়ে উঠছে।’

এখানে এসে মিলের প্রতিদ্বন্দ্বী মেকলে সাহেবের ‘দ্য প্রাউডেস্ট ডে’ তত্ত্বের অনুবৃত্তি দেখতে পাচ্ছি। একে ‘নমনীয় সাম্রাজ্যবাদ’-এর অবস্থান হিসেবে ভাবতে পারেন কেউ কেউ। বা হাল আমলের ‘সফট পাওয়ার’ তত্ত্বের পূর্বলেখও পাওয়া যেতে পারে এতে। নামকরণ যা-ই হোক, লিবারেল মিল-এর কুশলী যুক্তির জাল বিস্তারের উদ্দেশ্য পরিস্কার :সাম্রাজ্যবাদকে বাদ দিয়ে নয়, বরং পরিবর্তিত পরিস্থিতির সাথে মানিয়ে নিয়ে সাম্রাজ্যবাদী শাসনকে সতর্কতার সাথে নমনীয় ও সূক্ষ্ণভাবে পরিচালনা করতে হবে।

সভ্য জাতির ‘সভ্যতার’ সংজ্ঞা কী ছিল, মিলের চিন্তায় এ প্রশ্ন এখানে ওঠা স্বাভাবিক। ভারতবর্ষের ওপরে ব্রিটিশ জীবনযাত্রা চাপিয়ে দেওয়াকে মিল সভ্য হয়ে ওঠার মাপকাঠি ভাবতেন না। ভারত আরেকটা ইংল্যান্ড হয়ে উঠুক- সেটা তার কাম্য ছিল না। মেকলে সাহেবের মতো তিনি কখনো (অন্তত স্পষ্ট করে) বলেননি কোথাও যে, ভারতবর্ষীয়রা কালক্রমে ‘বাদামি সাহেবে’ পরিণত হলে ব্রিটিশ শাসনের নৈতিক উদ্দেশ্য সাধিত হবে। মিলের মতে, ইংরেজ প্রোটেস্টান্টরা যেমন তাদের সন্তানদের রোমান ক্যাথলিক সেমিনারিতে পাঠাতে চান না, ভারতবর্ষীয়রাও তাদের সন্তানদের স্কুলে পাঠিয়ে খ্রিষ্টান বানাতে চাইবে না; এটাই স্বাভাবিক। ১৮৩০-এর দশকে অ্যাংলিসিস্ট বনাম ওরিয়েন্টালিস্ট বিতর্কের কালে তরুণ মিল কলম ধরেছিলেন ওরিয়েন্টালিস্টদের পক্ষে; বাবা জেমস মিলের অবস্থানের বিরুদ্ধে গিয়ে। মিলের কাঙ্ক্ষিত আদর্শ ‘সভ্য জাতির’ গুণাবলির তালিকায় ছিল সর্বজনমান্য সব বৈশিষ্ট্য- রুল অব ল, শান্তি ও স্থিতিশীলতা, অপরাধের অবসান, অন্যায়ের প্রতিকার, পরমতসহিষ্ণুতা, অসুখ, দুর্ভিক্ষ ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রতিরোধে সমবায়ী উদ্যোগ গ্রহণ ইত্যাদি। ফুকোর লেখা থেকে এখন আমরা জানি- নিম্নবর্গের ঐতিহাসিকরা এটা বিভিন্নভাবে প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করেছেন- এসব আপাত নিরীহ সুশাসনমূলক ও উন্নয়ন-উদ্যোগ সভ্যতা প্রতিষ্ঠার নামে আধুনিক রাষ্ট্রক্ষমতার কাছে বশ্যতা বা নতি স্বীকার করাকেই জায়েজ করেছে। মিল এখানে ফুকো-কথিত গভর্নমেন্টালিটিকেই ঔপনিবেশিক শাসন ব্যবস্থায় প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছেন। এর পরিণতি সাধারণ মানুষের জন্য সুখকর হয়নি।

এমনকি মিল-শিষ্য বঙ্কিমের তা দৃষ্টি এড়ায়নি। ‘বঙ্গদেশের কৃষক’ প্রবন্ধে ঔপনিবেশিক আইন প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, “আমরা দেখাইলাম যে, ব্রিটিশ রাজ্যকালে ভূমিসংক্রান্ত যে সকল আইন হইয়াছে, তাহাতে পদে পদে প্রজার অনিষ্ট হইয়াছে। প্রতি বারে দুর্বল প্রজার বল হরণ করিয়া আইনকারক বলবান জমীদারের বলবৃদ্ধি করিয়াছেন। তবে জমীদার প্রজাপীড়ন না করিবেন কেন?’ এমনকি রুল অব লর প্রবল প্রবক্তা মিলের বিরুদ্ধে গিয়ে সবিস্তারে জানাচ্ছেন, ‘কেন আইন আদালতে কৃষকের উপকার’ হয় নাই। প্রথমত, মোকদ্দমা অতিশয় ব্যয়সাধ্য। দ্বিতীয়ত, আদালত প্রায় দূরস্থিত, আর ‘যাহা দূরস্থ, তাহা কৃষকের পক্ষে উপকারী হইতে পারে না।’ তৃতীয়ত, বিলম্ব- ‘সকল আদালতেই মোকদ্দমা নিষ্পন্ন হইতে বিলম্ব হয়’, আর ‘বিলম্বে যে প্রতিকার, সে প্রতিকারকে প্রতিকার বলিয়া বোধ হয় না।’ চতুর্থত, ঔপনিবেশিক আইনের ‘অযৌক্তিকতা ও জটিলতা’। পঞ্চমত, বিচারকবর্গের অযোগ্যতা, যাহার মধ্যে অধিকাংশই ইংরেজ।”

এসব উল্লেখ করার পর বঙ্কিম যুক্তি দিচ্ছেন, এর পরও আমরা যদি ভাবি, ‘আমরা বড় সন্তুষ্ট হইলাম- কেননা, জুরির বিচার হইয়াছে- বিলাতি প্রথানুসারে বিচার হইয়াছে- আমরা বড় সভ্য হইয়া উঠিয়াছি’; তাহলে এর চেয়ে ভ্রমাত্মক আর কিছুই হতে পারে না।

[ক্রমশ]

Original in সমকাল

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s