[তুমুল গাঢ় সমাচার ৩] ষাটের দশকের কবিতা ও আমাদের আধুনিকতা (Poetry of the Sixties and Our Modernity)

তুমুল গাঢ় সমাচার: নব-জাগরণের এক বিস্মৃত অধ্যায়

পর্ব ::৩

[গত সংখ্যার পর]

এসব বিভিন্ন ধারার উৎস থেকে ষাটের দশকের সাহিত্য জগতে নানামুখী প্রভাব যে অনায়াসে এসে পড়তে পারছিল, তার একটা বড় কারণ ছিল এসব উৎসের মধ্যে সম্পূরক স্ববিরোধিতা। ক্লেদজ কুসুম-এর বোদলেয়ার তরুণ বয়সে ১৮৪৮ সালের বিপ্লব-প্রচেষ্টায় অংশ নিয়েছিলেন; এই বিপ্লবে বুক বেঁধেই মার্কস-এঙ্গেলস লিখেছিলেন কমিউনিস্ট ম্যানিফেস্টো। সার্ত্র-কাম্যু অস্তিত্ববাদী হয়েও দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের কালে নাজি-অধিকৃত ফ্রান্সে মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে যুক্ত হয়েছিলেন এবং নিয়মিত ‘কমবেট’ পত্রিকায় লেখালিখি করেছেন; অ্যালেন গিন্সবার্গ পারিবারিক সূত্র এবং মতাদর্শগতভাবে ছিলেন বামপন্থার দিকে ঝুঁকে : পুঁজিবাদ-সাম্রাজ্যবাদের বিনাশই তার কাম্য ছিল (যদিও তার ‘অন্য বামপন্থা’ ছিল প্রথাগত বামপন্থার বাইরে)। আমি বলতে চাইছি, ষাটের কবিতা তথা সাহিত্যলোকে অবক্ষয়ের ঋতু নেমে আসার পেছনে নানাবিধ প্রেরণা ক্রিয়াশীল থাকলেও মোটের ওপর তা সমাজমুখী চিন্তা-ভাবনার দূরবর্তী ছিল না। এবং সে কারণেই রাজনৈতিক ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ার চাপে যখন দৃশ্যপট পাল্টে যাচ্ছিল তখন তারা সহজেই অবক্ষয়ী নেতিবাদ থেকে সমাজমুখী ইতিবাদে চলে যেতে পেরেছিলেন। তবে এই চলে যাওয়া তাদের জন্য একমুখী উৎক্রমণ ছিল না। সমাজমুখী প্রেরণার পর্বেও তারা তাদের পূর্বের ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদী মনোভঙ্গি হারাননি। এ জন্যই নির্মলেন্দু গুণ লিখতে পেরেছিলেন ‘না প্রেমিক না বিপ্লবী’র এত দ্বিত্বতা-ধর্মী শিরোনাম; আবুল হাসান ‘রাজা যায় রাজা আসে’র মতো নির্বিকার পর্যবেক্ষণ, বা জন্ম নিয়েছিল আবদুল মান্নান সৈয়দের সাড়া-জাগানো গল্প-গ্রন্থ ‘সত্যের মত বদমাশ’ (যা ছিল ভুল কারণে নিষিদ্ধ বই তখনকার দিনে, এবং যা মিশেল ফুকোর ‘রিজিম অব ট্রুথ’কে একবারের জন্য হলেও মনে করাবে)। এই বিপরীত সন্নিপাতই রেনেসাঁর বৈশিষ্ট্য, যেখানে অন্তর্মুখী স্বভাব ও বহির্মুখী পদচারণা, প্রেম ও দ্রোহ, ব্যক্তিগত অবক্ষয় বোধ ও সামষ্টিক পরার্থপরতা একসাথে ক্রিয়াশীল থাকে। ষাটের প্রধান প্রধান কবি-সাহিত্যিকদের জন্যই এ কথা খাটে- ওই দশকের প্রথম পর্ব-দ্বিতীয় পর্ব নির্বিশেষে। বিপরীতের একত্র-সমাবেশ এই থিসিসকে আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ তার ‘ভালবাসার সাম্পান’ বইতে প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন এভাবে :

‘আমাদের প্রথম তারুণ্যকে জ্বালিয়ে তুলেছিল অবক্ষয়; এ আমাদের অনুভূতিকে তীব্রভাবে উদ্দীপিত করেছিল, কিন্তু (প্রথম যৌবনের প্রচণ্ডতায় ও অপরিণতির কারণে) একে আমরা ভালভাবে আত্মস্থ করতে পারিনি। তাই অবক্ষয় নিয়ে আমরা হৈ-চৈ করলেও এ ধারণায় আমাদের চোখে পড়ার মতো সাফল্য কম। কিন্তু জাগরণকে আমরা দেখেছিলাম কিছুদিন পরে, সামান্য একটু পরিণত বয়সে। তা ছাড়া এর সঙ্গে শৈল্পিক দূরত্বও আমাদের ছিল দ্বিতীয় লেখকদের চেয়ে বেশি। তাই ওদের চেয়ে আমরা একে আত্মস্থ করেছিলাম অনেক বেশি নিবিড়ভাবে এবং এতে আমাদের সাফল্যও হয়েছিল ওদের চেয়ে বেশি। লেখক-জীবনের সূচনায় আখতারুজ্জামান ইলিয়াস, বিশেষ করে রফিক আজাদ ছিল আমণ্ডুপদনখ অবক্ষয়ের চেতনায় প্রোথিত। কিন্তু ধীরে ধীরে গভীর দেশাত্মবোধ এবং উচ্চতর সংঘ-চেতনাকে তারা আত্মস্থ করেছিল।’

কিন্তু তার মানে কি এই যে, ষাটের দ্বিতীয় পর্বের জাতীয়তাবাদ এবং সমাজচেতনা একে একে গ্রাস করেছিল অবক্ষয়ের কবি-সাহিত্যিকদের? তারা কি হয়ে পড়েছিলেন জাতীয়তাবাদের দাস? রাষ্ট্র-ক্ষমতার জনবিচ্ছিন্ন চরিত্রকে গোড়া থেকেই কি তারা সন্দেহের চোখে দেখেননি? ‘রাষ্ট্র মানেই লেফট রাইট লেফট’ বলে করেননি কি প্রতিবাদ? ‘অথেনটিক’ তথা অকৃত্রিম জাগরণের একটি কুলক্ষণই হলো তার রাজশক্তির মুখোমুখি দাঁড়িয়ে সত্য বলার ক্ষমতা। এ জন্যই রফিক আজাদ স্বাধীনতার প্রথম প্রহরেই অনায়াসে বলতে পারেন একই সাথে আশা ও হতাশায় বিদ্ধ স্থিতধী পঙ্‌ক্তিমালা। একগুচ্ছ বিচ্ছিন্ন উদাহরণ তার ‘সীমাবদ্ধ জলে, সীমিত সবুজে’ (১৯৭৪) গ্রন্থ থেকে-সেসব আজও কী সাম্প্রতিক শোনায়!

যেখানে রয়েছো স্থির-মূল্যবান আসবাব, বাড়ি;
কিছুতে প্রশান্তি তুমি এ-জীবনে কখনো পাবে না।
শব্দহীন চ’লে যাবে জীবনের দরকারি গাড়ি-
কেননা, ধ্বংসের আগে সাইরেন কেউ বাজাবে না।
আমার জীবনে স্থায়ী কোন সকাল-দুপুর নেই,
সারাক্ষণ ব্যেপে থাকে- অপরাহেপ্ত-মনোধিমণ্ডলে।
সম্পূর্ণ বর্জন নয়, গ্রহণে-বর্জনে গড়ে নেই
মানুষের বসবাসযোগ্য চিরস্থায়ী ঘর-বাড়ি;
বহিরঙ্গে নাগরিক-অন্তরঙ্গে অতৃপ্ত কৃষক;
স্থান-কাল পরিপার্শ্বে নিজ হাতে চাষাবাদ করি
সামান্য আপন জমি, বর্গা-জমি চষি না কখনো।
অ্যাটম বোমার থেকে দু’বছর বড় এই আমি
ধ্বংস ও শান্তির মধ্যে মেরু-দূর প্রভেদ মানি না।
ক্ষীয়মাণ মূল্যবোধে, সভ্যতার সমূহ সংকটে
আমি কি উদ্বিগ্ন খুব?-উদ্বিগ্নতা আমাকে সাজে কি?
রাষ্ট্র, রাষ্ট্রনীতি, নেতা, নানাবিধ আইন-কানুন
নিয়ন্ত্রিত ক’রে যাচ্ছে যথারীতি প্রকাশ্য জীবন,
ভিতর-মহল জেঁকে বসে আছে লাল বর্ণমালা।
যদি না মেটাতে পারো আমার সামান্য এই দাবী,
তোমার সমস্ত রাজ্যে দক্ষযজ্ঞ কাণ্ড ঘ’টে যাবে;
ক্ষুুধার্তের কাছে নেই ইষ্টানিষ্ট, আইন-কানুন-
সম্মুখে যা-কিছু পাবো খেয়ে যাবো অবলীলাক্রমে;
থাকবে না কিছু বাকি- চলে যাবে হা-ভাতের গ্রাসে।

যেজন প্রকৃত বিষাদগ্রস্ত সেই কেবল গভীর দেশাত্মবোধে আলোড়িত হতে পারে- এই ধূসর পাণ্ডুলিপি শুধু জীবনানন্দ লেখেননি। রফিক আজাদ যেমন ‘বেশ্যার বেড়াল’-এর মতো কবিতা লিখেছেন, তেমনি লিখেছেন ‘গান হতে বলি’; নির্মলেন্দু গুণ যেমন লিখেছেন ‘হুলিয়া’, তেমনি দুর্ভিক্ষের ঘনায়মান দৃশ্যপটকে মনে রেখে ‘সর্বগ্রাসী হে নাগিণী’র বিখ্যাত সূচনা-পঙ্‌ক্তি (সঙ্গত কারণেই তার প্রথম তিনটি কাব্যগ্রন্থ তার সবচেয়ে জনপ্রিয় কবিতার মধ্যে পরবর্তীতে বিবেচিত হয়েছে)। আবদুল মান্নান সৈয়দ ‘জন্মান্ধ কবিতাগুচ্ছ’-এর পরাবাস্তববাদী ভুবনে বিচরণ করে অসাধারণ সব লাইন লিখে গেলেন। এই এক কাব্যগ্রন্থের মাধ্যমে পরাবাস্তববাদ (ও ‘জীবন আমার বোন’-এর পাস্তেরনাক) আমাদের জাগরণের সাথী হয়ে গেল। আজও যখন পড়ি চমৎকৃত না হয়ে পারি না: ‘এই রাত্রিরা বেথেলহাম-কে ব্রথেলে পরিণত করে’; ‘সিংহের খাঁচায় বসে আমি গল্প লিখছি মনে মনে’; ‘দাও আমাকে সুযোগ বিশুদ্ধ পাগল কি বিশুদ্ধ মাতাল কি বিশুদ্ধ চরিত্রহীন কি বিশুদ্ধ ভালোমানুষের’; ‘খটখটে মাটির ভিতর উনিশ বছর আমি ছিপ ফেলে বসে আছি আত্মার সন্ধানে’; অথবা ‘পাপের ভিতর গোলাপ থাকে, এমনকি শব্দের পাপেও, কবিরা যেমন’। ১৯৬৯ সালে উত্তাল দেশের পরিস্থিতিতে তিনি যখন ভাবছেন তার নিজের জীবনের পরিণতি নিয়ে, তখনও স্বদেশ সকাল বেদনার্ত উঠে আসতে দেখতে পাই। ‘জ্যোৎস্না-রৌদ্রের চিকিৎসায়’ তাকে বলতে শুনি এভাবে :

আমি দীপহীন অন্ধকার ঘরে একা
এরি মাঝখানে নিজের আগুনে জ্বালিয়েছি লণ্ঠন আমার,
এই শতাব্দীর সন্ধ্যাকালে।
এ আঁধারে দু-হাত পেয়ালা করে
তারা-জ্বলা পানি খাবো বলে নেমে যাবো ভীষণ জীবনে।
আমার নিজের তৈরি, নিজের আগুনে জ্বালা
লণ্ঠন কি সঙ্গে যাবে? লণ্ঠন কি সঙ্গে সঙ্গে যাবে?
চিৎকারে ছুটেছি একটি কালো ঘোড়া, পরে নিয়ে
মানুষের ছদ্মবেশ; দীপ্র, সান্দ্র আত্মা বিক্রি করে
জীবনের লঘু-গুরু প্রত্যেকটি দোকানে ফিরেছি,
শরীরে ধারণ করে একমাত্র লাশের প্রচ্ছদ।

আর ‘ও সংবেদন ও জলতরঙ্গ’ পর্যায়ে এসে ভেঙে পড়বে পূর্বেকার সব মায়াবী আয়না। কালো ঘোড়া তখন উৎফুল্ল শাদা ঘোড়া হয়ে যাবে। তিনি বলে উঠবেন :

মন্বন্তর আমাকে এক জন্ম দিয়েছে
মহোত্থান আমাকে দ্বিতীয় জন্ম দিক
সমস্ত দৃশ্যচ্ছবি আমি ধরে ফেলি
কালো হাওয়া
সমস্ত শব্দমালা আমি ধরে ফেলি
লাল হাওয়া
আমি শূন্যে প্রোথিত হয়েও জাগ্রত রেখেছি আমার স্বপ্নের এ্যানটেনা
আমার হাত ফসকে শাদা একটি ঘোড়া বেরিয়ে গেছে প্রান্তরে
ফাল্কগ্দুনের এই দিন

সুবিদিত যে, ঐতিহাসিকভাবে পরাবাস্তবাদীদের মধ্যে দুই দল হয়ে গিয়েছিল। এক দল আন্দ্রে ব্রেতোর নেতৃত্বে ‘প্রগতিশীল’ রাজনীতির পথে পা বাড়িয়েছিলেন, ৪র্থ ইন্টারন্যাশনালের সাথে যুক্ত হয়েছিলেন (এর বিনিময়ে ট্রটস্কি হাত দিয়েছিলেন ব্রেতো-রচিত সুররিয়ালিস্ট ম্যানিফেস্টোর খসড়ার পরিমার্জনায়)। আরেক দল থেকে গিয়েছিলেন জাগরণবিমুখ স্ব্বপ্নের মায়াচ্ছন্নতায় (এদের কেউ কেউ ভিড়ে গিয়েছিলেন সালভাদর দালির ফ্যাসিবাদী ক্যাম্পে)। ষাটের শেষের দিকে এবং স্বাধীনতার অব্যবহিত পরে এমনই বিভাজন হয়তো ঘটে থাকবে প্রথম ষাটের চন্দ্রাহত কবি-সাহিত্যিকদের ক্ষেত্রে। আদিতে পরাবাস্তববাদে আক্রান্ত আখতারুজ্জামান ইলিয়াস যেমন সময়ের সাথে সাথে আরও সমাজমনস্ক থিমের মধ্যে ঢুকে গেছেন। আবদুল মান্নান সৈয়দের জন্য পরিবর্তনটা সাময়িক হলেও তার সমগ্র কাব্যচর্চার জন্য এটি যে ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মোড়-ফেরা, তা এখন বির্তকের ঊর্ধ্বে।

এক-অর্থে, ‘কণ্ঠস্ব্বর’-এর প্রথম সংখ্যার ম্যানিফেস্টো ধারার উচ্চারণ ও তৃতীয় সংখ্যার ম্যানিফেস্টো ধারার উচ্চারণের মধ্যে একটি বিপরীতমুখী ভাবের প্রকাশ দেখতে পাই। প্রথম ধারার উচ্চারণে ছিল শুধু শিল্প-তাড়িতদের কথা: ‘যারা সাহিত্যের ঘনিষ্ঠ প্রেমিক, যারা উন্মাদ, অপচয়ী, বিকারগ্রস্ত, অসন্তুষ্ট, বিবরবাসী’ তাদের মানবিক শৈল্পিক স্বীকৃতির প্রচ্ছন্ন তাগিদ ছিল সেই আহ্বানে। ‘কণ্ঠস্বর’ তৃতীয় সংখ্যায় পড়ি অন্যরকম (যদিও একটি আরেকটিকে অস্বীকার করে না) প্রেরণা :’যারা জীবনকে অনুভব করতে চান শত তলে, শত পথে, বিঘ্নিত রাস্তায়; আঙ্গিকের জটিলাক্ষরে, চিন্তার বিচিত্র সরণিতে; কটু স্বাদে ও লোনা আঘ্রাণে, সততায়, শ্রদ্ধদ্ধায়, বিস্ময়ে অভিভূতিতে ও পাপে; মহত্ত্বে ও রিরংসায়; উৎকণ্ঠায় ও আলিঙ্গনে’ সেই তরুণদের ডাক দেওয়া হবে সেখানে। এই পরিবর্তনটা ঘটেছিল সমাজ-রাজনীতির পালাবদলের হাত ধরেই। এক্ষেত্রে আবদুল্লাহ আবু সায়ীদের নিজের ব্যাখ্যা তাৎপর্যপূর্ণ :’ষাটের দশকের বিপুল সামষ্টিক উত্থান এবং গণজোয়ারের মুখে এই জাতির সমস্ত ব্যক্তিগত বিবেচনা যখন নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছিল তখনও আমাদের ধারার লেখকদের ভেতর জাতীয়তাবাদী চেতনার পাশাপাশি ব্যক্তিক মনোভঙ্গি এবং অনিকেতের চেতনা নিবিড়ভাবে ক্রিয়াশীল ছিল। আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের ‘চিলেকোঠার সেপাই’কে আমি এর একটি প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করতে পারি। ষাটের প্রায় প্রতিটি লেখকের লেখাতেই এই ব্যাপারটা কমবেশি ঘটেছে।’

এক হিসেবে, এটা বিতর্কাতীত বিষয় হওয়া উচিত। ব্যক্তিগত বিবেচনা ও সামষ্টিক বোধ- এ দুইয়ের মধ্যে কোন অলঙ্ঘ্য দেয়াল কল্পনা করা যায় না। ফ্রয়েড ও মার্কস উভয়েই পুঁজিবাদকে অতিক্রম করতে চেয়েছিলেন, যে রকম জাক লাকাঁ ও মিশেল ফুকো। ব্যক্তিগত বেদনা ও সামষ্টিক ক্ষোভ এদের প্রতিতুলনা চলতে পারে কেবল সীমিত অর্থে ও পরিসরে ঘোরতর স্তালিনবাদী না হলে সবাই স্বীকার করবেন যে, মান্দেলস্টাম (যিনি গুলাগ বন্দিশিবিরে প্রাণ হারিয়েছিলেন) ও মায়াকোভস্কি (যিনি বিপ্লবকে কবিতায় ধারণ করেছিলেন) উভয়েই জলে-পড়া পিঁপড়েদের ডাঙায় তুলতে চেয়েছিলেন। আখমাতভাকে কি এক পর্যায়ে ‘বুর্জোয়া ডেকাডেন্সের’ অভিযোগে অভিযুক্ত হতে হয়নি? তাহলে বিশেষভাবে ষাটের প্রথম ভাগের কবি-সাহিত্যিকদের কেন অবক্ষয়বাদী বলে চিহ্নিত হতে হবে এবং নৈতিকতার কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে হবে? এই প্রেক্ষিতে আমি শহীদ কাদরীর পালাবদলকে বাড়তি প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করতে চাই।

[ক্রমশ]

Original in সমকাল

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s